আকাশে ভাসছে খাদ্য সামগ্রী মোবাইল নেটওয়ার্কে যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি

234

মোস্তফা কুদ্দুস : ঢাকার দোহার – নবাবগঞ্জর আকাশে ভাসছে খাদ্য সামগ্রী মোবাইল নেটওয়ার্কে যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি। কথাটা কাল্পনিক মনে হলেও এখানে কাল্পনীকতার চিহ্ন মাত্র নেই। যা বলা হচ্ছে তা শতভাগ চরম সত্য।

মধ্যবিত্ত, অসহায় , দিনমুজুর, শ্রমিক, রিকসাচালক, রাজমিস্ত্রী, কেউ বাদ যাবে না খাবার পাওয়া থেকে সবাই পাবে খাদ্য সামগ্রী। কেননা দোহার নবাবগঞ্জর ফেইসবুকে এখন একটি তথ্যই বার বার ঘুরে ঘুরে সামনে আসছে। খাবার না থাকলে ফোন দিন পৌছে যাবে আপনার ঘরে। সরকার, ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশন সহ বেশ কিছু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা দিয়ে আসছে। শোনা যাচ্ছে এই কার্যক্রম চলবে রমজান হয়ে ঈদ পর্যন্ত । যা দোহার নবাবগঞ্জবাসীর জন্য বিরাট সুখবর।

সরেজমিনে ঘুরে ঘুরে দেখা ও জানা যায়, দোহার – নবাবগঞ্জর অসহায়- মধ্যবিত্ত, শ্রমিক, তাতী কেউই না খেয়ে নেই। সরকার সহ সবাই খোব মানবতার সহিদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেণ। লক্ষ একটাই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় খাবারের অভাব যেন না পরে দোহার- নবাবগঞ্জ। এমনটাই জানা যাচ্ছে উপজেলার সকল শ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে।

এখন পর্যন্ত দোহার – নবাবগঞ্জে সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে হাজার হাজার প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ হয়েছে। এবং আরো প্রায় হাজার হাজার প্যাকেট খাদ্য সামগ্রীর প্রস্তুতকৃত বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে। খাদ্য সামগ্রী বিতরণে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সরকার আর দোহার নবাবগঞ্জ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমানের বাবার নামে গড়া ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশন। তার পরে বেসরকারী ও ব্যাক্তিগত অর্থায়নে যার যার জায়গা থেকে সামর্থ অনুযায়ী বিতরণ করছেন খাদ্য সামগ্রী।

আবার এটাও দেখা গিয়েছে যে, অনেকে বারবার খাদ্য সামগ্রী পেলেও কেউ কেউ একবার ও পায়নি। এর অন্যতম কারন হচ্ছে প্রশাসন ও ত্রানদাতাদের মাঝে সমন্বয়হীনতা। খাদ্য সামগ্রী যদি পূর্ব থেকেই একটি ত্রান ডাটাবেজের মাধ্যমে প্রদান করা হতো, তাহলে এমন সমন্বয়হীনতা দেখা যেতো না।

ত্রানদাতারা যাকে দায়িত্ব দিচ্ছে সে বার বার স্মজনপৃতি করতে গিয়ে বার বার একই লোককে পাইয়ে দিচ্ছে। আর এটা যদি এক জায়গা থেকে দেওয়া বা বিলি হত তাহলে একটা হিসাবের মধ্যে থেকে সঠিক অসহায় মধ্যবিত্ত মানুষ গুলা পেত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সুশিল ও সচেতন মানুষ জানান, দোহার নবাবগঞ্জের যে রকম কৃতি সন্তান রয়েছেন এবং ধনী ব্যাক্তিদের বসবাস, তারা যদি মনে করে দোহার নবাবগঞ্জের সকল বাসিন্দাদের প্রতি ঘরে ঘরে বস্তা বস্তা চাল ডাল যাবে তবুও তাদের ধণ সম্পদ কমবেনা। শুধু তাদের এগিয়ে আসতে হবে নীজ উদ্যোগে। করোনা ভাইরাস যতই বিপদ জনক রুপ নেয় না কেন দোহার নবাবগঞ্জর মানুষ না খেয়ে মরবে না। কারন সরকারি বেসরকারি বিভিন্নভাবে প্রচুর খাদ্য সামগ্রী বিলি হচ্ছে দোহার নবাবগঞ্জে।

দোহার থানা অফিসার ইনচার্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “দোহার নবাবগঞ্জ প্রচুর ধণী মানুষের বসবাস। আমার যতটুকু মনে হয়, খাদ্য অভাবে পরবে না কেউ। সবাই সবার জায়গা থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন। দোহার থানার মতো এমন কম এলাকা ই আছে বাংলাদেশে।আর তাছাড়া আমাদের নম্বরে ফোন করেও অনেকে খাদ্য সামগ্রী পেয়ে যাচ্ছেন। আমি নতুন একটি পরিকল্পনা করেছি যে আমাদের টহলরত গাড়ী বা অভিযান চলা কালে আমি কিছু খাবার প্যাকেট নিয়ে যাব যাদের একদমই কোন কিছুতে নাম নেই তাদেরকে রাস্তার মধ্যে হাতে হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিব ইনশাআল্লাহ।”

এবিষয়ে জানতে চেয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালাহউদ্দিন মজনু বলেন, “ সরকার সহ আমাদের দোহার নবাবগঞ্জ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমানের বাবার নামে গড়া ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ চলছে। করোনা ভাইরাস যত দিন থাকবে আমরা বিতরণ করে যাব ইনশাল্লাহ। আর তাছাড়া সরকারী ভাবে ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশন সহ আমার ফেইসবুক আইডিতে মোবাইল নাম্বার দেওয়া আছে কেউ যদি সেখানে যোগাযোগ করে খাদ্য সংকটের ব্যপারে জানায় তবে আমরা তাদের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছি। এই কার্যক্রম চলবে যতদিন করোনা ভাইরাসের আতংক থাকবে ততদিন।”

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, “বেসরকারি ভাবে যারা খাদ্য সামগী বিতরণ করছে। তারা আমাদের সাথে সমন্বয় করছে না। যার ফলে দিয়ে শেষ করতে পারব না। আর যদি আমাদের সাথে বা এমপি স্যারের সাথে সমন্বয় করে তবে ভাল হবে। টোটাল তালিকা হলে কারা ১০ টাকার চাল সুবিধা পাচ্ছে বাদ দিয়ে যাচাই করে দেয়া গেলে ভাল হত। তবে আমরা চেস্টা করছি সরকারি এবং এমপি মহোদয় এর অর্থায়ন সহ যেন খাদ্যের অভাব না হয়। এই যেমন সাভার, ধামরাইয়ে খাবারের প্যাকেট উপজেলায় দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যদি এমন হত ভাল হত। বা চেয়ারম্যান দেরকে জানিয়েও যদি দিত তাহলে আমরা সত্যিকার অর্থে যারা পাচ্ছে না আমরা বাদ পড়াদের দিতে পারতাম।”