গভীর রাতে ঢাকার দোহার থানা পুলিশের মানবতার দৃষ্টান্ত

185

নিজস্ব প্রতিবেদক, খবর৩২: বুধবার শেষ হয়ে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১.০০ টা বাজে। পুরো দোহার বাসি যখন ঘুমে বিভোর । তখন দোহার থানা পুলিশ জয়পাড়া বাজারে ডিউটি অবস্থায় দেখতে পায় দুইজন মহিলা একজন পুরুষ, একজন প্রসব বেদনায় কাতর গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে এলোমেলো দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তখন টহলরত এ.এস.আই তুহিন পারভেজ সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাদের সহোযোগিতায় এগিয়ে যায় এবং মহিলার প্রসব যন্ত্রণা দেখে দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন এবং অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আরাফাত হোসেন কে তৎক্ষনাৎ ফোনে তাহার অবস্থা জানান। ঐ মূহুর্তে ওসি সাজ্জাদ হোসেন দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে সার্বিক সহোযোগিতার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন‌ এবং তিনি নিজে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার জসিমউদ্দিন কে ফোন দেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ এর অনুমতি সাপেক্ষে ওই মুহূর্তে প্রসব বেদনায় কাতর মহিলাকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় । কিন্তু ওখানে দায়িত্ব রত ডাক্তার বলেন যে আমাদের এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই উনাকে অন্য কোথাও নিয়ে গেলে আরো ভালো চিকিৎসা পাবেন । পরবর্তীতে ওই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যগণ ওই মহিলাকে ওখান থেকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিকটস্থ জয়পাড়া ক্লিনিকে নিয়ে যান। ওই মুহূর্তে রাত দুটো 20 মিনিট বাজে গেছে । কিন্তু ওই ক্লিনিকে গাইনি ডাক্তার না থাকায় পুনরায় অফিসার্স ইনচার্জ নির্দেশক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের‌ গাইনি ডাক্তার শিউলি আক্তার কে পুলিশের গাড়িতে করে জয়পাড়া ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয় ।

তারপর তিনি ওই রোগীকে অবজারভেশন করেন এবং তার চিকিৎসা শুরু করেন। ওই সময় ডাক্তার রোগীর অবস্থা দেখে বলেন যে রোগীর অবস্থা বেশি ভালো না দুজন রক্তদানকারী প্রয়োজন দুই ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে হবে। তখন পুনরায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালে তিনি রাতে থানায় ডিউটি অফিসার শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এর মাধ্যমে থানার যত পুলিশ সদস্য‌ রয়েছে তাদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন এবং এদের ভেতর থেকে দুইজন রক্ত দাতা সংগ্রহ করেন। রাত যখন তিনটা বাজে তখন থানা থেকে 2 জন পুলিশ সদস্য মহিলাকে রক্ত দানের উদ্দেশ্যে হসপিটালে যান এদের মধ্যে একজন প্রভেশনাল সাব-ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান এবং আরেকজন কনস্টেবল মোসলেম। তাদের ব্লাড গ্রুপ বি পজেটিভ ক্রস ম্যাচ করে। তারপরে ডাক্তার শিউলি আক্তার চিকিৎসা শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার বলেন এই রোগীকে এখানে চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না । বাচ্চার ওজন তিন কেজি চারশত গ্রাম এবং মহিলার শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে ডাক্তার তাকে ঢাকায় রেফার্ড করতে বলেন । পরবর্তীতে অফিসার ইনর্চাজকে অবহিত করা হলে তিনি দায়িত্বরত এএসআই তুহিনকে নির্দেশ দেন ।

তাহার নির্দেশক্রমে একটা এম্বুলেন্স ভাড়া করে সুচিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এ এস আই তুহিন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন। অদ্য 23 এপ্রিল আনুমানিক বেলা পৌনে 2 ঘটিকার সময় তাদের একটা কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তারা দুজনেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছে। পুলিশ দোয়া করেন তারা যেন ভালো থাকে সুস্থ থাকে। অফিসার ইনচার্জ তাদের আশ্বস্ত করেন বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে তাদের সকল প্রকার সহযোগিতা দোহার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে। চলমান মহামারীর এই পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা সর্বদা যে কোন অবস্থায় মানুষের সেবা দিতে প্রস্তুত ছিল, আছে, থাকবে।

দোহার থনা ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। সে কথা মাথাই রেখেই মানুষের সেবাই নিজেকে সহ দোহার থানা পুলিশকে নিয়োজিত রেখেছি, রাখবো ইনশাল্লাহ। এই মহামারিতে আমরা আপনাদের সেবা করার জন্য দিন রাত বাইরে আছি, কাজ করে যাচ্ছি। দয়া করে আপনারা সবাই ঘরে অবস্থান করুন, নিরাপদে থাকুন, পরিবারকে সুস্থ থাকুন।