ঢাকার দোহারে সরকারি সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের টানাহেঁচড়া

302

খবর ৩২ : সরকারি সম্পত্তি নিয়ে টানাহেঁচড়া করছে দুইটি পক্ষ। এই দুই পক্ষের টানাহেঁচড়ায় এলাকার মানুষ সহ প্রশাসন পরেছে বিপাকে। কেউ বলছে সরকারি সম্পত্তি, কেউ বলছে ভূমিহীনদের দেওয়া সম্পত্তি, কেউ বলছে মালিকানা। এই নিয়ে চলছে টানাপড়েন। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ঢাকার 

দোহার উপজেলার মধুরচর মৌজায় ২ নং খতিয়ানের এস.এ ও আর.এস রেকর্ড ১০.৭৮ একর খাস সম্পত্তি থাকায় তাহার বর্তমান মালিক সরকারের ডেপুটি কমিশনার, ঢাকা। উক্ত সম্পত্তির দখল নিয়ে দু’পক্ষের নানা নাটকীয়তায় পক্ষালম্বন করছেন পুলিশ এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

১০ জুন বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দোহার উপজেলার মধুরচর মৌজায় ২ নং খতিয়ানের আর.এস রেকর্ড খাস থাকায় তাহার বর্তমান মালিক সরকারের ডেপুটি কমিশনার, ঢাকা। উক্ত সম্পত্তির পরিমান প্রায় ১০.৭৮ একর যাহার মালিকানা দাবী করে আদালতে দেওয়ানী মোকাদ্দমা মামলা ৮২/৯৫ রায় ডিগ্রীর আলোকে পরবর্তী ডিগ্রীজারী মোকাদ্দমা-০২/২০০০ এর বলে আদালত কতৃক দখল উচ্ছেদ রায় বাস্তবায়ন করেন জয়দর নামের এক জনের পক্ষে । পরবর্তীতে আর এস রের্কড সংশোধনী মামলা নং- ১২৫/২০১৪ প্রথম যুগ্ন জেলা জর্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন নারিশা গ্রামের জয়দর। বতর্মানে আদালতে দেওয়ানী মোকাদ্দমা চলমান রয়েছে বলে জানা যায় ।

উক্ত সম্পত্তি সাড়ে দশ একর দখলের পায়তারা করছেন মামলাবাজ মধুরচর গ্রামের সালাম মহুরী গং বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। এ ঘটনায় সালাম মহুরী গংয়ের পক্ষের লোকজন পেশীশক্তি ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা ও ভাসমান বাড়ি-ঘর ভাঙ্গার চেষ্টা করলে তাতে বাধা প্রদান করেন মালিকানা দাবীদার জয়দর। জয়দর জোরপূবর্ক জমি দখলের একটি মামলা দোহার থানায় দায়ের করলে তার তদন্তে আসেন দোহার থানা পুলিশ ।

এ ঘটনায় সালাম গং নানা নাটকীয় মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন বলে জানান জয়দর। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিত্বে একাধিকবার দোহার থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা জেলা পুলিশ অতিরিক্ত এএসপি নাছিম মিয়া ও দোহার সাকের্লে এএসপি জহিরুল হক ঘটনা তদন্তে আসেন।

এ সময়ে স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ঢাকা জেলা পুলিশ অতিরিক্ত এএসপি নাছিম মিয়া দোহার প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টিপু, খবর ৩২ এর চিফ এডিটর মোস্তফা কদ্দুস সহ সঙ্গীয় সাংবাদিকদের ছবি তুলতে গেলে বাঁধা প্রদান সহ প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা করেন। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত বিষয়টি নিয়ে সরকারের স্বার্থজড়িত থাকায় সাংবাদিকরা সঠিকভাবে তথ্য তুলে ধরবেন এটাই প্রত্যাশা করেন  সাংবাদিকদের কাছে সাধারণ জনগন । সেখানে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত এএসপি নাছিম সাংবাদিকদের দুরে রেখে বহিরাগতদের নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত এলাকাবাসী সহ উপজেলার সাংবাদিকরা ।

এ বিষয়ে দোহার প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান বলেন, এএসপি নাসিম সাব ভাল এবং সুন্দর করে বলতে পারতেন যে আমাদেরকে তদন্ত করতে দেন। তদন্তে আমরা যা পাব পরে আপনাদের সাথে আমরা ব্রিফিং করে কথা বলে যাব। সাংবাদিকদের বাঁধা প্রদান সহ প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা করাটা সুন্দর কাজ হয়নী।

এ বিষয়ে আদালতে দেওয়ানী মামলা পরিচালনাকারী জয়দর জানান, আমি অসুস্থ্য থাকায় আমার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম সংবাদ পেয়ে মামলা ও জমির কাগজপত্র নিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ অতিরিক্ত এএসপি নাছিম এর কাছে গেলে তিনি জানান, পরে দেখবো আপনার কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। এ সময়ে বিবাদী সালাম মহুরী গং তাকে দেখে নিরবে হুমকি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে মধুরচর গ্রামের সালাম মহুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমরা ক্রয়সুত্রে ও লীজসুত্রে মালিকানা দাবী করছি।

এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা জানতে এএসপি নাছিম মিয়ার সাথে বার বার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান।