দোহারে স্মাগলার সুমনের বিরুদ্ধে মা-মেয়েকে পিটিয়ে জখম ও জমি দখলের অভিযোগ

310

খবর ৩২ : নারী জন্মদাত্রী মা, খালা, ফুপু , নারী বোন, নারি-স্ত্রী সেই নারী মা-মেয়ে সহ ২ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে এক নারী স্মাগলার । দুই নারীকে পিটিয়ে জখম করে আহত করার পর ঐ দুই নারীর জমি দখলের অভিযোগ করা হয়েছে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ঢাকার দোহারে।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই নারীকে পিটিয়ে জখম করা সহ সরকারি খাস জমি ও বাড়ি জবরদখল করার অভিযোগ করেছে ভূক্তভুগি মা-মেয়ে। দুই নারীকে মারার বিষয়ে দোহার থানায় ২ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ মে) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী শিউলী বেগম (৪০) ও তার অনার্স পরোয়া মেয়ে প্রিয়া আক্তার (২০) কে সামান্য অর্থ লেনদেনের বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটায়।

ভুক্তভোগী শিউলী ও প্রিয়া জানান, আমাদের প্রতিবেশী ও ঘুষেরবাগ এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. সুমন (স্মাগলার) সংঘের সাথে যুক্ত। স্মাগলার সুমন কিছু দিন পর পর বিভিন্ন দেশে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে এলকার নারীদের নিয়ে যায়। অনেক নারীর মত আমাদের ও তিনি অনেক বার আমাকে ও আমার মেয়েকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা ভাবে প্রলভন দেখায়। তার কথায় রাজি না হওয়ার কারনে তুচ্ছ একটি বিষয়কে ইসু বানিয়ে আমাদের সাথে ঝগড়া করে।

ইতিপূর্বে ও দুই দিন ঝগড়া করতে চাইলে আমরা কোন কথা না বলাতে সুযোগ পায়নি। কিন্তু ঐ দিন কথা বলাতে এক পর্যায়ে সুমন ও তার ভাই আমাকে ও আমার মেয়েকে ইট, লাঠি দিয়ে বারি ও কিল ঘুষি মেরে নীলা ফুলা জখম করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

তিনি আরও বলেন, বিবাদী পক্ষ সরকারি জমি দখল, জবরদখল, সুদ ও অবৈধ অস্ত্র রাখার মত দেশ বিরোধী কাজে লিপ্ত। সমাজে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। তার বাবা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি, ছোট ভাই উজ্জ্বল একজন মাদকসেবি ও মাদক ব্যবসায়ি। তাদের দাপটে সমাজে বসবাস করার জো নেই।

বুধবার (১০ মে) সরজমিনে গিয়ে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, তাদের বিলাসবহুল তিনটি বাড়ি রয়েছে, নতুন যে বাড়িটি নির্মান করেছে ঐটিতে প্রায় এক দের কোটি টাকা খরচ করেছে। তার এতো টাকা কোথা থেকে আসে এমন প্রশ্ন উকি দিচ্ছে অনেকের মনের কোনায় । এছাড়া সরকারি জমি দখল ও জবরদখল করে বাড়ি নির্মান করা এবং স্মাগলিং এর সাথে জরিত থাকার কথাও জানা যায় সুমনের বিরুদ্ধে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ এলাকার কয়েকজন বলেন, নতুন যে বাড়িটি নির্মান করেছে ঐ জায়গাটা ছিল নোয়াব আলী বেপারীর ছেলে সেলিম বেপারীদের। একলক্ষ টাকার বিনিময়ে ঐ বাড়িটি বন্ধক রেখে ছিল সুমনদের নিকট। সময়মত টাকা ফেরত না দিতে পারায় তারা পেশী শক্তি, লোকবল ও টাকার জোরে ঐ বাড়িটি লিখে নিয়েছে। পরে এক লক্ষ টাকার বদলে তিন লক্ষ টাকা দিতে চাইলেও জায়গাটি তাদের আর ফেরত দেয়নি। এছাড়া সেলিমের ভাবিদের বাড়িও ঐ একই কৌশলে জবরদখল করে নিয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া মালিকান্দার (শ্মশান ঘাট) এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল করে দোকান নির্মানের অভিযোগ ও রয়েছে সুমন ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে।

এবিষয়ে বিবাদী সুমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি টাকা পাবো সেই টাকা চাইলে তার সাথে আমার ঝগড়া হয় এক পর্যায় তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে আমার স্ত্রী শিউলী আপাকে মোবাইল ফোন দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে।

স্মাগলিং ও জমিদখল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি বিদেশে ড্রাই ফিস, কসমেটিকস, মোবাইল ফোন ইত্যাদি হ্যান্ডক্যারি ব্যবসা করি। সরকারি জমি দখল ও জবরদখলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সমাজে ভাল অবস্থানে রয়েছি। তাই অনেকের ভাল লাগে না। যে কারনে আমাদের সম্পর্কে এধরনের কুৎসা রটাচ্ছে। এগুলো ভিত্তিহীন মিথ্যা।

এবিষয়ে দোহার থানা পুলিশের এস. আই নাসিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যা সুমন (৩৮) ও উজ্জ্বল (৩৬) উভয় পিতা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে আমি দুই দিন গিয়েছি কিন্তু তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি।