দোহার-নবাবগঞ্জ মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি-সামাজিক দূরত্ব হযবরল

32

মোস্তফা কদ্দুস: বাংলাদেশ সরকারি শর্ত দিয়ে দেশের হাট বাজার শপিং মল খোলার অনুমতি দেওয়া হয় ১০ মে । সর্ত প্রথমটা ছিল স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে ক্রেতা- বিক্রেতাকে চলতে হবে। এবং সকাল ১০ থেকে ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে মার্কেট সহ শপিং মল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মার্কেটে হযবরল অবস্থা বাস্তবে। দোহার নবাবগঞ্জর ক্রেতা সাধারণ সহ কোন ব্যবসায়ীরাই তা মানছেনা। এসব দেখা যায় হরহামেসায় মার্কেট আর শপিং মলে চোখ মেলে ধরলে। 

দোহার- নবাবগঞ্জর বাগমারা, জয়পাড়া ,বাংলা বাজার সরজমিন ঘুরে ঘুরে দেখা যায়। মার্কেট আর শপিং মলে ক্রেতা বিক্রেতা সবাই পূর্বের স্বাভাবিকতায় স্বাভাবিক ভাবেই পন্য বিক্রি করছেন। মুখে মাক্স নেই, হাতে হ্যান্ড গ্লোস নেই। পৃথিবীতে করোনা ভাইরাস বলে কিছু আছে শর্কেট শপিং মলে গেলে বুজার উপায় নেই। যেন স্বাভাবিক নিয়মেই সব চলছে পৃথিবীতে। স্বাস্থ্যবিধি-সামাজিক দূরত্ব কিছুই না মেনে মার্কেটে হযবরল অবস্থায় ভিড় দেখা যাচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জ শপিং মল গুলোতে। সচেতনতা বাড়াতে দোহারের বাংলা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে, সমিতির সম্পাদক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে হ্যান্ড মাইকিং করে জনসমাগম রোধ করার লক্ষে । এবং সবাইকে সহচতন থাকার আহবান জানান তিনি।

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে হযবরল অবস্থায় বিকিকিনি জমজমাট ক্রেতা-বিক্রেতা।  দোহার নবাবগঞ্জর মার্কেটগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় যা তা অবস্থা । সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিভিন্ন বিপনী বিতান সহ শপিং মল গাদাগাদি হয়ে চলছে কেনাকাটা মহা ঈদ উৎসব। ভোরের আকাশে র্সূর্য উকি দেওয়ার সাথে সাথেই মার্কেট ও দোকানপাট খুলে যায় । সে সব ভিড় সামাল দিয়ে অনেকই সকাল সকাল ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরেছেন বলে ও জানা যায়। সূর্য ঘুরার সাথে সাথে মানুষ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মার্কেট ও শপিং মল গুলোতে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ঝুঁকি চলে আসে হরহামসায়। মরনের ভয় পিছনে ফেলে কেনাকাটা করছে মার্কেটে আসা ক্রেতা সাধারণ।

জানা যায়, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার অনেকেই সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫ টা থেকে সাড়ে ৫ টা, ৬টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল খোলা রাখছেন বলে অনেকে অভিযোগ করছেন। গত ১৬ মে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিট্টেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র দোহার উপজেলা জয়পাড়া ও কার্তিকপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে বিকিকিনির অপরাধে ৭ ব্যবসায়ী অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দোহার থানা পুলিশের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় উপজেলার জয়পাড়া বাজারে ১০ দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাস্তবতায় দেখা ও জানা যায়, দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকেন। এরফলে দুই উপজেলাতেই মার্কেটগুলোতে নারী সদস্যদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো সব চেয়ে বেশী। বিগত দিনে দোহার উপজেলার জয়পাড়া, মেঘুলা, নারিশা, ফুলতলা, কার্তিকপুর, বাংলা বাজার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা,  বাগমারা, বান্দুরা, আগলা, গালিমপুর, শিকারীপড়া, বারুয়াখালী ও বাংলাবাজার এলাকায় দেখা যায় মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলোতে হযবরল অবস্থায় ভিড়। ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কটে আসা নারী ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশী। শিশুদের সাথে নিয়ে নারীরা মনের আনন্দে করোনার ঝুঁকি নিয়েই ঈদের কেনাকাটা করছেন দেখা যায়। বাচ্চাদের কোন রকম সেফটি ছারাই সারা দোহার নবাবগঞ্জ ঘুরে বেরাচ্ছে অভিভাবক ক্রেতারা। 

নারি ক্রেতাদের অবাধ চলাফেরাই মনে হচ্ছে করোনা ভাইরাস বলতে দেশে এখন আর অস্তিত্ব নেই। সবকিছু যেন আগের মতো স্বাভাবিক মনে হচ্ছে । মার্কেটে কাপড়ের দোকানের পাশাপাশি কসমেটিক্স ও জুতার দোকানেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। স্বাস্থ্যবিধি-সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বালাই চিহ্ন মাত্র নেই ক্রেতা সাধারণের। বেশীর ভাগ দোকানগুলোতে মাক্স, হ্যান্ড গ্লোভস, হ্যান্ডস্যানিটাইজারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

জয়পাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা নারি-পুরুষ অনেকেই  জানান, ঈদে এবার নিজেদের জন্য না শুধু বাচ্চাদের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে এসেছি। জানতামনা এতো ভির হবে তাহলে আসতাম না। এখন চলে যাব। স্বাস্থ্যবিধি সামাজিক দূরত্ব মানছেন না জানতে চাইলে বলেন হয়ে উঠেনা মানা। সবাই আগে আগেই নিতে চায় আর এমনটা হয়।

জয়পাড়া বাজারের স্থানীয়রা জানান, পুরুষ ক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা মানলেও মহিলারা এমদমই মানেন না। বিধায় একটু ঝুকি নিয়েই সবাই কেনাকাটা করছে। জয়পাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সামিয়া অাক্তার সীমু জানান, পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। অনেক ভিড়, কষ্ট হচ্ছে। তবুও কিনতে পেরে এখন ভালো লাগছে। কিন্তু অনেক দোকানে হান্ডস্যানিটাইজার ব্যবস্থা নেই।

এসব সামাল দিতে দিতে প্রশাসনের আবার নতুন এক ব্যাস্ততায় পরে গেছেন। সেটা হলো দোহার নবাবগঞ্জের আনাচে কানাচে এখন ঢাকা, চট্রগ্রাম, খুলনা, বরিশাল থেকে বিভিন্ন কায়দা ব্যবহার করে মানুষ ঢুকছে তার পৈত্রিক ভিটায়। প্রতিনিয়ত এমনটা অভিযোগ আসছে দোহার থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে। 

সব শেষ করোনা থেকে বাচতে চাইলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার  কোন বিকল্প নেই। দোহার – নবাবগঞ্জে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোগী দিন দিন বেরে চলছে । এখন দোহার- নবাবগঞ্জর জনসাধারণকে সেবা দিতে গিয়ে ইতিমধ্যে ১৬ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাস রোগী দোহারে ১৬ জন পুলিশ-সহ মোট ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন । মারা গেছে ২ জন ।এবং নবাবগঞ্জে মোট ২৪ জন। দোহার-নবাবগঞ্জে করোনা আক্রান্তের হার মোট ৫৪ জন। এ ভাবে বাড়তে থাকলে করোনার প্রকোপ মহামারিতে রুপ নিতে পারে বলে সচেতন মহল শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ ভাইরাস থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এখনই জুরুরি বলে জোর দাবি জানিয়েছেন।

দোহার – নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিকিকিনি করতে হবে। অন্যথায় মার্কেট বন্ধ-সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।