করোনায় অন্য এক বাংলাদেশ;১০মে থেকে খুলে যাবে মার্কেট

19

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমগ্র বিশ্বের চিত্র পরিবর্তন করে দেওয়ার অন্য এক নাম কোভিড-১৯ (জৈবিক) নভেল করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসের কোনো কার্যকরী ঔষধ আবিষ্কার না হওয়ায় মৃত্যুর মিছিল দিনদিন দীর্ঘায়ত হচ্ছে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়। ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। এরপর থেকে সংখ্যাটি দীর্ঘতর হচ্ছে । পিছিয়ে নেই মৃত্যুর সংখ্যাও । জনমনে মৃত্যুর আতংক সবসময় বিরাজমান।

স্বাস্থ্য সংস্থা গুলো কিছু নিয়মকানুন বলে দিয়েছে এর থেকে প্রাথমিক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু সেই নিয়মই কি পেরেছে এই ভাইরাস থেকে বাঁচাতে? এই ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সরকারি অফিস-আদালত,শিল্প কারখানা সহ সব ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। লকডাউন করা হয়েছে বিভিন্ন জায় গায়। বলাই যায় যে, বাংলাদেশের চিত্রই পরিবর্তন হয়ে গেছে করোনা কালে। 

এসএসসি পরীক্ষা ফলাফল ঘোষণা দেওয়া, এইচএসসি পরীক্ষা বন্ধ, সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা আছে এক অনির্দিষ্ট ভোগান্তি তে। এখন রমজান মাস চলতেছে। এই রমজান মাসে মুসলিম পরিবার গুলোতে কতো সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করার কথা ছিলো। সন্ধার সময় ইফতারের আয়োজন থাকার কথা ছিলো। মসজিদে মসজিদে তারাবীহ নামাজ আদায় হত দল বেধে, কিন্তু আজ মনে হয় সবই ঘুমন্ত অবস্থায় অনুপস্থিত ।

ঈদকে সামনে রেখে মার্কেট গুলোতে থাকতো কেনাকাটার ভীর। বাহারী পোশাকে সজ্জিত থাকতো মার্কেট এর শপিং মল গুলো। কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকতো সকল পরিবারের মানুষ জন। রমজানে মুসলামনদের মাঝে যে এক রকম আনন্দ বিরাজ করতো।  সেটা আজ বাংলার মাটি থেকে হারিয়ে গেছে, সত্যিই অনুপস্থিত সেই সব পরিবেশ।

তারাবির নামাজ আদায় করতে হচ্ছে নিজেদের ঘরের মধ্যে । সকলকে হোমকোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে বলা হয়েছে। কতদিন থাকা যায় ঘরের মধ্যে আবদ্ধ? রাস্তাঘাট ফাঁকা, মানুষ নেই, নেই যানবাহন। ঢাকার চিত্রতো এখন সত্যিই অন্য রকম এক ঢাকা মনে হচ্ছে। এই মহামরী পুরো দেশের চিত্রই পাল্টে দিয়েছে। সামনে ঈদ, তাই এখনো জনমনে আতংক যে, তারা ঈদের আনন্দ কি করতে পারবে?

সরকার মহল সহ সকল সচেতন মহলের প্রত্যাশা এই বিপদ থেকে কাটিয়ে সুসময়ে খুব দ্রুত ফিরে যাবে বাংলাদেশ। তবে তার জন্য প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এই দুর্ভোগ দ্রুত কেটে যাক এটাই প্রত্যাশা সকলের। বাংলাদেশের চিত্র আবার আগের মতো সু্ন্দরময় হয়ে উঠুক খুব দ্রুত।

স্লো-গান উঠেছিল বিজ্ঞানী-দের দেওয়া নাম। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। নিজে সচেতন হোন, অন্য কে সচেতন করুণ। নিজে ঘরে থাকুন, পরিবারকে নিরাপদ রাখুন। ভাল করে হাত ধুন। মাস্ক ব্যবহার করুন। এ সব কিছুর জন্ম হয়েছিল করোনাভাইরাস কে কেন্দ্র করে। মানুষ সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে প্রতিনিয়ত। কথা একটা স্লোগান একটা ঘরে থাকুন। নিরাপদ রাখুন।

ঘরে থাকা এবং রাখার জন্য প্রশাসন অভিযান,  সচেতনতা- আলোচনা সভা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সহ বাজার মনিটরিং হয়েছে ও  জেল জরিমানা হয়েছে প্রায় প্রতিদিন।

অবশেষে সব রকম জল্পনাকল্পনা কাটিয়ে ঢাকার দোহার- নবাবগঞ্জ সহ বাংলাদেশে আগামী ১০ মে রবিবার থেকে জেলায় /উপজেলায় অভ্যন্তরীণ ভাবে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে, সীমিত আকারে ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, দোকান-পাট , শপিংমল সহ অন্যান্য কার্যাবলী খোলা রাখা যাবে ।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উপসচিপ মো. সাইফুল ইসলামের বরাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার রিবা। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করতে হবে। আন্তঃজেলা/উপজেলা ভ্রমণ থেকে নিবৃত্ত থাকতে হবে।

(সোশ্যাল মিডিয়া) বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অনেকে এ সিদ্ধান্তকে আতংক বলে মনে করছেন। দোহারে সোমবার ৪ এপ্রিল দুইজন করোনাভাইরাস সংক্রামক রোগী ধরা পরেছে । জানা অজানা দোহার -নবাবগঞ্জ করোনাভাইরাস রোগী আক্রান্ত প্রায় ১৬/১৮ জন। এর মধ্যে একজন মৃত্য বরন করেছেন। এসব বাস্তবতা নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন দোহার- নবাবগঞ্জর সুশীল, সামাজিক, সংস্কৃতি মনা কিছু মানুষ।

সুশীল, সামাজিক, সংস্কৃতি মনা কিছু মানুষ আবার এর উল্টোটা ও ভাবছেন সরকার বা প্রশাসন কোটি কোটি মানুষের কথা চিন্তা করে এসব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে, সীমিত আকারে ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, দোকান-পাট , শপিংমল সহ অন্যান্য কার্যাবলী খোলা রাখা যাবে ।

সেটাকে সমর্থন করে এরা আবার মনে করেন সব হয়তো খুলে দেওয়া হয়েছে ঠিক আছে। আপনি আপনার জায়গা থেকে নিজে, পরিবারকে সচেতন থাকুন – রাখুন। তাহলেতো সমাধান হয়ে যাবে করোনাভাইরাস আপদ-বিপদ যতদিন পৃথিবীর পরিবেশ স্বাভাবিক না হবে আমি- আপনি আমার পরিবার নিয়ে সচেতন থাকবো। তাহলেইতো সব সমাধান হয়ে যায়। হাট , বাজার, মার্কেট খুলছে যাব না। 

এ বিষয়ে দোহার থানা অফিসার ইনচার্য সাজ্জাদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ সরকার যে ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই ভাবে সকল নাগরিক কে মেনে নিতে হবে। সরকারের বাহিরে কোন সিদ্ধান্ত বা কথা বলা যাবে না। জনগনের উদ্যেশে তিনি বলেন, নিজে- নিজের জায়গা থেকে এখন আরো বেশি সচেতন থাকতে হবে। সচেতনতার বিকল্প নেই। যতদিন না করোনাভাইরাস সংক্রামক নামক রোগটির প্রতিশেধক না বের হয়। দোহার- নবাবগঞ্জ সহ বাংলাদেশের সকল নাগরিককে তিনি সচেতন থাকার আহবান জানান।