দেশ ও মানুষের কল্যাণে বেক্সিমকো ও সালমান এফ রহমান

176

খবর ৩২ : দেশের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে; প্রথম উৎপাদিত বেক্সিমকোর রেমডেসিভির সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে রেমডেসিভির ইনজেকশন হস্তান্তর করছেন বোক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায় নিজেদের উৎপাদিত রেমডেসিভির ওষুধ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসায় এ ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে । এজন্য সরকারের কাছ থেকে কোনও টাকা নেবে না বেক্সিমকো।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজেদের উৎপাদিত এক হাজার রেমডেসিভির ইনজেকশন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে তুলে দেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন। উল্লেখ্য, বেক্সিমকো উৎপাদিত ইনজেকশনটির নাম রেমডেসিভির।

এ সময় নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘রেমডেসিভিরকে ইমার্জেন্সি ইউজের জন্য আমেরিকায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ওষুধের চেয়ে এই ওষুধের দাম কিছুটা বেশি। একজন রোগীর ৬ থেকে ১১টি ইনজেকশন প্রয়োজন হয়। একটি ইনজেকশনের দাম যদি সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হয়, তাহলে প্রায় ৬০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে একজন রোগীর। যেহেতু বাংলাদেশ সরকার সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছে, সেহেতু বেক্সিমকো থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালে যত রোগী আছে, তাদের যদি রেমডেসিভির প্রয়োজন হয়, তাহলে বিনামূল্যে দেওয়া হবে। আমরা সরকারের কাছ থেকে এজন্য কোন টাকা নেবো না। আমাদের যদি বলা হয় কোনও রোগীর এ ওষুধ প্রয়োজন, তাহলে আমরা সেখানে পৌঁছে দেবো।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রেমডেসিভিরের ইমার্জেন্সি ইউজের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ। একই ধারায় বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরও এ ওষুধের ইমার্জেন্সি ইউজের অনুমতি দিয়েছে। বেক্সিমকো প্রথম কোম্পানি, যে এই ওষুধটি অত্র অঞ্চলে উৎপাদন করেছে। যাদের অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল, মুমূর্ষু, তাদের এ ওষুধ দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের এ ওষুধ দেবেন। আশা করি এতে উপকার হবে, জীবন রক্ষা হবে।’ 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোভিড রোগীদের জন্য এখনও কোনও ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। এখনও এমন কোনও ওষুধও আসেনি, যা খেলেই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাবেন। তবে বেশ কিছু ওষুধ বাজারে আসছে, সব ওষুধই কিছু কিছু কাজ করে, রেমডেসিভির তেমনই একটি ওষুধ। আমাদের ডাক্তাররা ট্রিটমেন্ট প্রটোকলে কিছু ওষুধ যুক্ত করেছেন। আমরা আশা করি এ ওষুধটিও প্রটোকলে যুক্ত হবে।’

অপরদিকে বেক্সিমকোর ভাইস চেয়ারম্যান, দোহার নবাবগঞ্জর সাংসদ, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা  সালমান এফ রহমান পক্ষ থেকে দোহার-নবাবগঞ্জের অসহায়, গরীব, দিনমুজুর মানুষের জন্য ৬১০০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, করোনায় কর্মহীন ও অসহায় দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান পক্ষে তার বাবার নামে গড়া ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশন থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় ।

সরকারি বরাদ্দ চাল ছাড়াও সালমান এফ রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী রয়েছে। এতে করে এ উপজেলার কর্মহীন, অভাবগ্রস্ত, দুস্থ, অসহায়, ও হতদরিদ্র মানুষ খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ২৮ হাজার এবং দোহার উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভায় ৩৩ হাজার পরিবারকে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, ঈদ উপহার সামগ্রী ৮ হাজার পরিবার এবং শিশু খাদ্য ৫৫০০ পরিবারকে বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯৮১০টি পরিবার এবং দোহারে ৮৮৮৫টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর নগদ আর্থিক সুবিধার আওতায় এসেছেন। এর ফলে মানুষের মাঝে দুর্ভোগ বহুলাংশে লাঘব হবে। তালিকায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোল্ট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকসহ পরিবহন শ্রমিক, হকারসহ নানা পেশার মানুষকে রাখা হয়েছে।

আক্তার রিবা জানান, দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার অভিভাবক ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান স্যারের দিকনির্দেশনায় অসহায় দোহারবাসীর পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সরকারি ত্রাণের চাল ছাড়াও এমপি মহোদয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৩৩ হাজার অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত আছে ।  ঈদ উপহার হিসাবে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী প্রায় ৮ হাজার পরিবারকে দেয়া হয়েছে। শিশু খাদ্য ৫৫০০ পরিবারকে দেয়া হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অসহায়দের নগদ আর্থিক সুবিধার আওতায় ৮৮৮৫টি পরিবার পাবেন। সাহায্য সহযোগিতা যেভাবে চলমান রয়েছে তাতে করে দোহারে খাদ্য ও মানবিক সমস্যা হবে না ।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১২৬টি ওয়ার্ডে ২৮ হাজার পরিবারকে সরকারি ত্রাণের চাল ছাড়া এমপি মহোদয়ের আর্থিক সহযোগিতায় বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নগদ আর্থিক সুবিধার আওতায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ৯ হাজার ৮১০টি পরিবার এ সুবিধা পাবেন। বিশেষ নজরদারি নিখুঁতভাবে যাচাই বাছাই করে নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবং প্রকৃত যারা প্রাপ্য তারা যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। সাহায্য সহযোগিতা যেভাবে অব্যাহত আছে আশা করি মানুষের দুর্দশা অনেকাংশ লাঘব হবে।