প্রবাসে ছেলে করোনা আক্রান্ত;দেশের মসজিদে বাবার জিকির:অতপর মারামারি

214

স্টাফ রিপোর্টার : প্রবাসে ছেলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে সুস্থ্যতা কামনায় দেশের মসজিদে বাবার জিকির করা। তাই নিয়ে এলাকায় দ্বন্দ লেগে তুলকলাম এবং ধর্মীও অনুভূতিতে আগাতের মত ঘটনা ঘটে গেছে । ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর খাজার হাট-বাজার সংলগ্ন শিকদার বাড়ির জামে মসজিদে এমন ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, খাজার হাট বাজার এলাকার নুর  হোসেনের ছেলে প্রবাসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ছেলের সুস্থ্যতা কামনা করে প্রতিদিনের ন্যায় সেহেরির সময় মসজিদে জিকির করে। জিকির করা নিয়ে আবুল হোসেনর ছেলে মনিরের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। আরো জানা যায় মনির হোসেন সাদা পাঞ্জাবী পাজামা পরে নূর হোসেনকে রাতে ভয়ও দেখায়।

এই নিয়ে মোয়াজ্জেম মো. নূর হোসেনের সাথে মুসল্লী আব্দুল হক মোল্লার ছেলে মনির মোল্লার জিকির করা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। সেই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মনির মোল্লা কে মারধর করে। এবং তিনি মনির মোল্লার মাথায় দেয়া নবীর সুন্নাত টুপি খুলে নিয়ে তার পুরুষ অঙ্গ ও পায়ু পথে ঘষে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ক্ষোব্ধ এলাকাবাসী মনে করে এ কাজে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। মসজিদের মোয়াজ্জেম মো. নূর হোসেনের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৯ মে) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মৃত গনি শিকদারের ছেলে আক্কাস শিকদার ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করছে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বিলাশপুর এলাকায় বিষয়টি এখন টপ অপ দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আক্কাস শিকদারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৮ মে মসজিদের মোয়াজ্জেমের দায়িত্বে থাকা নূর হোসেনকে মনির মোল্লা জিকির করতে নিষেধ করে। এনিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরের দিন বিকেলে মনিরের সাথে কথা বলার সময় দুজনে আবার উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতি করে । আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মনির ও নূর হোসেন কে চর মেরেছি। এবং তিনি স্বীকারও করেন যে, নূর হোসেন মনির মোল্লার টুপি নিয়ে এঘটনা ঘটিয়েছে। তাই তিনি মোয়াজ্জেম নূর হোসেন কে মসজিদ থেকে বিদায় করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নূর হোসেন একজন গরু চোর ছিলেন। তিনি লেখা পড়া কিছু জানেন না। তার পরেও আক্কাস শিকদার তাকে মোয়াজ্জেম হিসেবে মসজিদে রেখেছেন এবং তার পক্ষ নিয়ে একটি নিরীহ ছেলেকে পিটিয়েছেন। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীর পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী মনির মোল্লা, সাদা পাঞ্জাবী পাজামা পরে নূর হোসেনকে রাতে ভয়ও দেখানোর বিষয়টি মিথ্যা বানোয়াট। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদৈর্শী দাদন মোল্লা, আব্দুল খালেক, পাষান খলিফা সহ অনেকে বলেন, ২৪ রমজান সেহরির সময় সঠিক ভাবে শুনতে পারছিলাম না, নূর হোসেনের মাইকের জিকির করার জন্য। তিনি সেহরির সময় কতটুকু বাকী আছে তা না বলে শুধু জিকির করতে ছিল। তাই মনির মোল্লা নূর হোসেনকে সেহরির সময় জিকির করতে নিষেধ করে এবং সেহরির পরে জিকির করতে বলাতে তিনি রেগে যান।

১৯ মে বিকেল ৫ টার দিকে মনির মোল্লাকে আক্কাস শিকদার ও নূর হোসেন ডেকে নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে কিল, ঘুষি, লাথি ও জুতা দিয়ে পিটিয়ে নীলা-ফুলা জখম করে এবং মনিরের মাথায় দেয়া নবীর সুন্নত়্ টুপি ছিনিয়ে নিয়ে নূর হোসেন পুরুষ অঙ্গে ও পায়ু পথে ঘষে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয় ।

বিষয়টি নিয়ে ২৯ মে শুক্রবার বিকেলে সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা এই করোনা পরিস্থিতিতে সময় না দিতে পারায় সালিশ করা হয়নি বলে জানান তিনি। তবে দুই একদিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে দিবেন বলে জানান।