নবাবগঞ্জের বারুয়াখালীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে কালামের অবৈধ বালু উত্তোলন

49

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের শাখা নদীতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান বালুখেকো কালাম সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ন অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বালু উত্তোলন এর কাজ এবং ব্যবসা। একতরফা ভাবে চুরি করে এমন কর্মকান্ডে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব ।

অন্যদিকে মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলাভূমিতে আশ্রিত নানান জীববৈচিত্র্য ও মূলবান কৃষিজমি। এলাকাবাসী জানান, প্রভাবশালী মহল বালুখেকো কালাম ও তার সহযোগীরা প্রতি বছর বারুয়াখালী ইউনিয়নের যে কোন যায়গায় সেলু মেশিন ব্যবহার করে পুকুরে ৩০ থেকে ৫০ ফুট গর্ত করে বালু উত্তোলন করে মাটি বালু বিক্রি করলেও যেন দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় মোতালেব নামে এক কৃষক বলেন, কালামকে বালু উত্তোলনে নিষেধ করলে বলে, তোমার জমিতো নষ্ট হচ্ছে না। আমার জমিতে আমি বালু উঠালে তোমার কি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে করপাড়া এলাকার আরো এক কৃষক বলেন, বালুখেকো কালাম বারুয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের এক নেতার আত্মীয়র পরিচয় দিয়ে প্রতি বছর এখান থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। কেউ কিছু বললে সেসব কথার কর্নপাত করে না বালুখেকো কালাম। গোপনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রশাসৈনিক নিষেধাজ্ঞাকে কোন রকম তোয়াক্কা না করেই অবাধে বালু উত্তোলন করে চলেছে কালাম ও তার সহযোগীরা।

এর ফলে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ছড়া-খাল ভাঙন, ফসলি জমি প্রভৃতি ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা । সেই সাথে বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ভারসাম্য। কালাম ও তার সহযোগীরা চুক্তিভিত্তিক, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুকুর কেটে বালু উত্তোলন করে পাইপ দিয়ে হোম ডেলিভারী দিচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার করপাড়া এলাকায় বালু উত্তোলনের নামে এখানে হরিলুট চলছে।

সম্পূর্ণ এলাকার পরিবেশ বিপন্ন করে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের চিত্র ভয়াবহ। ফলে দ্রুত বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন এলাবাসীর সাধারণ জনগন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে কালাম বলেন, আমি কয়েক দিন যাবত শুরু করেছি মাত্র। এটা আমার এক আত্মীয় আছেন এটি তার পুকুর। ব্যবসা করেন সারা বছর এ কথা বললে তিনি কোন জবাব দেননি।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলার বারুয়াখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করতে হয়। সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিদের্শে আমরা রাত দিন কাজ করছি। এই সুযোগে কেউ হয়ত এ কাজটি করতে পারে। আমি দ্রুত খোঁজ নিয়ে দেখছি।